
৩০ মিনিট পানিতে থাকবে যে ফোন !
মিড বাজেটে স্যামসাং বরাবরেই চেষ্টা করে তাদের কাস্টমারদের ভালো কিছু ডিভাইস অফার করতে। আর স্যামসাং এর মিড বাজেট কিং বলা হয় Galaxy A30 সিরিজকে।
এই সিরিজের আগের ডিভাইসগুলো বেশ ভালো জনপ্রিয়তা পেয়েছিল । সম্প্রতি বাজারে আসা গ্যালাক্সি A35 ও এর ব্যতিক্রম নয়। যা আপনাকে অফার করছে বাজেটের সেরা স্পেসিফিকেশন।
আর আপনি যদি মিড বাজেটে একটা ডিভাইস কেনার প্ল্যান করে থাকেন তবে এই ডিভাইসটি রাখতে পারেন আপনার পছন্দের তালিকায় !
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

প্রথমেই আসে ডিভাইসটির ডিজাইন এর কথা, ডিভাইসটির শেইপ একদম ফ্ল্যাট. প্লাস্টিক ফ্রেম এর ডিভাইসটির ব্যাকে সাইডে এ থাকছে গ্লাস এবং ক্যামেরা মডিউল।
রাইট সাইডে থাকছে এর পাওয়ার বাটন ও ভলিউম রকার, টপে থাকছে এর সেকেন্ডারি নয়েজ কেন্সেলেশন মাইক এবং ডিভাইসটির নিচের দিকে থাকছে এর ইউএসবি টাইপ সি , মাইক্রোফন এবং স্পিকার।
এর ওজন ২০৯ গ্রাম হলেও ডিভাইসটি বেশ হালকা এবং হ্যান্ডফিল ছিল বেশ কমফোর্টেবল.
ডিভাইসটি আইপি৬৭ ওয়াটার/ডাস্ট রেসিস্ট্যান্ট হওয়ার ফলে পানির ১ মিটার নিচে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে নিরাপদ। তাই বৃষ্টি কিংবা সুইমিংপুলে নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারবেন।
ডিসপ্লে

ডিভাইসটিতে থাকছে ৬.৬ ইঞ্চির এর সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এটি ১২০ হার্জের এর একটি ডিসপ্লে এবং এর সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস ১০০০ নিটস। এটি বেশ ব্রাইট থাকার ফলে সরাসরি সূর্যের নিচেও ব্যবহার করতে খুব একটা সমস্যা হবেনা
পাঞ্চ হোল ডিসপ্লেটির স্ক্রিন টু বডি রেশিও ৮৪.৮% যার বলে এর ব্যাজেল ছিলো বেশ মিনামাল। ১৯.৫ঃ ৯ অনুপাতের ডিসপ্লেটির রেজুলেশন ১০৮০ x ২৩৪০ পিক্সেল এবং এর পিপিআই ডেনসিটি ৩৯০, যার ফলে এটি ছিল বেশ ক্লিয়ার।
কন্টেন্ট ওয়াচিং এর পাশাপাশি গেমিং এবং ডেইলি টাক্সে এটি ছিল বেশ কালারফুল। অলয়েজ অন ডিসপ্লের সাথে ডিসপ্লেটিকে প্রোটেক্ট করার জন্য আছে করনিং গরিলা গ্লাস ভিক্টাস+ এর প্রোটেকশন।
পারফরম্যান্স (চিপসেট, জিপিউ, সফটওয়্যার কানেক্টিভিটিটি )

পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আসে এর প্রসেসরের কথা। ডিভাইসটিতে থাকছে এক্সিনস ১৩৮০ চিপসেট. এটি ৫ ন্যানোমিটার ফেব্রিকেশনে বিল্ড করা একটি প্রসেসর। অক্টাকোর এর চিপসেট টিতে গ্রাফিক্স সাপোর্ট হিসেবে আছে মালি-জি৬৮ এম পি ৫. যা দিয়ে ডেইলি ট্যাক্স গুলার পাশাপাশি, মাল্টিটাস্কিং এবং টুকটাক গেমিং করা যাবে সহজেই।
হেভি গেমগুলো রান করতে গেলে ফোনটি বেশ ওভারহিট হয়, এবং গেমগুলো খেলা কিছুটা কষ্টকর হয়। তবে রেগুলার ইউজে এই প্রসেসরটি সবকিছুই ম্যানেজ করতে পারে বেশ সহজেই।
ডিভাইসটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে এন্ড্রয়েড ১৪ এবং সাথে আছে স্যামসাং এর বিখ্যাত ওয়ান ইউআই ৬.১। এছাড়াও ডিভাইসটি ৪ বছরের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট সহ ৫ বছরের সিকিউরিটি আপডেট পাবে।
ইউএসবি টাইপ-সি ২.০ ছাড়াও কানেক্টিভিটির জন্য ডিভাইসটিতে আছে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৫.৩ এবং এনএফসি। যা দিয়ে ফাস্ট কানেকশনের পাশাপাশি ডাটা ট্রান্সফার করা যাবে খুব সহজেই।
ক্যামেরা

মিড বাজেট ডিভাইস হিসেবে স্যামসাং এ৩৫ ডিভাইসটিতে ভালো একটা ক্যামেরা সেটাপ অফার করেছে, এর ট্রিপল ক্যামেরায় মেইন ক্যামেরায় থাকছে ৫০ মেগা পিক্সেল লেন্স।
দিনের আলোতে এই ক্যামেরা দিয়ে খুব সুন্দর এবং কালারফুল ছবি তোলা সম্ভব। এর ইমেজ কোয়ালিটি ছিল বেশ শার্প। তবে নাইট মুডে এর রেজাল্ট খুব একটা ভালো ছিল না। তবে ভালো আলো পেলে সুন্দর ছবি তোলা সম্ভব।
পাশাপাশি থাকছে ৮ মেগা পিক্সেল আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা, যা দিয়ে আপনারা একটা ফ্রেমেই অনেক জায়গা নিয়ে ছবি তুলতে পারবেন। গ্রুপ ফটো কিংবা ল্যান্ডস্কেইপ অনেক শট এই ক্যামেরা দিয়ে খুব ভালো ভাবে নেয়া সম্ভব।
এবং ৫ মেগাপিক্সেল, ম্যাক্রো ক্যামেরাটা দিয়ে খুব ক্লোজলি ছবি তোলা সম্ভব। যা দিয়ে আপনি যেকোনো ছোট জিনিসের সুন্দর ছবি তুলতে পারবেন। অনেকে শখ করে ম্যাক্রো ছবি তুলে থাকেন তাদের জন্য এই ক্যামেরাটি বেশ কাজের।
ডিভাইসটির সেলফিতে থাকছে ১৩ মেগা পিক্সেলের এর সেন্সর, যার ইমেজ কোয়ালিটি ছিল বেশ শার্প এবং এটি দিয়ে আপনারা খুব সহজেই লার্জ সেলফি নিতে পারবেন।।
পেছনের ও সেলফি দুটি ক্যামেরা দিয়েই ভিডিও শুট করা যাবে সর্বোচ্চ ৪কে রেজুলেশনের রেয়ার ক্যামেরায় ও আই এস এবং গাইরো- ই আই এস থাকার ফলে খুব স্টাবলিটির সাথে ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব। তবে ফ্রন্ট ক্যামেরায় থাকছেনা কোনো স্টাবিলাইজেশন।
ব্যাটারি

ডিভাইসটিতে আছে নন-রিমুবেবল ৫০০০ মিলিএম্প ব্যাটারি এর সাথে ২৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট। যা দিয়ে খুব সহজেই দ্রুত ফোনটি চার্জ করা যাবে।
অন্যান্য ফিচার
অন্যান্য ফিচার হিসেবে ডিভাইসটিতে আছে আন্ডার ডিসপ্লে ফিংগ্রারপ্রিন্ট, ভার্চুয়াল প্রক্সিমিটি সেন্সর, ওটিজি সহ আরো অনেক ফিচার।
Post a Comment