ডায়েট মানার পরেও ওজন কমছে না? কারণ হতে পারে এগুলো
বাড়তি ওজন নানা রোগের কারণ হতে পারে। ওজন কমালে যেমন সুস্থ থাকা যায়, তেমনি বাড়ে আত্মবিশ্বাসও। তবে ওজন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ডায়েট মেনে চলার পরেও ওজন না কমলে হতাশ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। যদি মনে হয় আপনার ডায়েট প্ল্যানটি কাজ করছে না, তবে নেপথ্য কারণ হতে পারে এগুলো-
- আপনি কি ওজন কমানোর অতি দ্রুত সমাধান খুঁজছেন? যদি আপনার লক্ষ্য দ্রুত ওজন কমানো হয়, তবে ডায়েট পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। পুষ্টিবিদ শ্বেতা জে পাঞ্চাল জানান, ২-৩ মাসে ১৫-২০ কিলোগ্রাম ওজন কমানোর চেষ্টা করাটা বাস্তবসম্মত নয়। এই ধরনের কঠোর পরিকল্পনা মেনে চলা কঠিন।
- উদ্দেশ্যহীন বা র্যানডম ডায়েট প্ল্যানে ঝাঁপিয়ে পড়লে সেটা আদতে কাজ করবে না। শ্বেতা জানান, অনলাইনে খুঁজে পাওয়া কোনও ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করলেই ওজন কমে যাবে এমনই নয়। যদি আপনার কোনও শারীরিক অসুস্থতা থাকে তাহলে এই ধরনের প্ল্যান উল্টো আপনার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
- ডায়েট মেনে চললেও হয়তো আপনার পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না। এই কারণে ওজনকে বাগে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
- আপনি যে ডায়েট পরিকল্পনাটি অনুসরণ করছেন, সেটা হয়তো আপনার উপযোগী নয়। প্রত্যেকেরই নিজস্ব রুটিন, সময়সূচী এবং জীবনধারা রয়েছে। যদি আপনার ডায়েট প্ল্যান সেই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় না নেয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার সম্ভাবনা কম।
- এক্সট্রিম ডায়েট কখনোই আপনার জন্য ভালো নয়। যেমন কেটো ডায়েট অনুসরণ করেন অনেকে। তবে এটি সবসময় সবার ক্ষেত্রে কাজ নাও করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে। শ্বেতা জানান, ডায়েটের মূল বিষয় হলো ভারসাম্য বজায় রাখা, অতিরিক্ত কিছু করা নয়।
- খাবার নিয়ম মেনে খেলেও হয়তো ঠিক মতো ব্যায়াম করছেন না। শরীরচর্চার অভাবে ডায়েট করার পরেও ওজন নিয়ন্ত্রণে নাও আসতে পারে।
- পর্যাপ্ত পানি ও পানিজাতীয় খাবার না খেলেও এর প্রভাব পড়তে পারে ওজনে।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ডায়েট মেনেও ওজন কমে না অনেক সময়।
- ওজন কমানোর জন্য হয়তো আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। আপনার শরীরের যত্ন নিতে কেউ আপনাকে বাধ্য করতে পারে না, এটি একটি এমন জীবনধারা যা আপনাকেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে। এজন্য সঠিক মানসিকতা জরুরি। তবেই ওজন কমানোর লক্ষ্য অর্জনে সফল হবেন।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Post a Comment